০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৬ বছর পর পেট থেকে মিলল ‘পাথর শিশু’, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিরল ঘটনা

  • আপলোড সময় : ১২:৪৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 1

ভারতের নাগপুরে ৬০ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে ৩৬ বছর পর ‘পাথর শিশু’ বা লিথোপেডিয়ন আবিষ্কৃত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। মৃত ভ্রূণ দীর্ঘদিন মায়ের শরীরে থাকার ফলে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যায় এবং এটি পাথরের মতো আকার ধারণ করে।

২০১৪ সালে ওই নারী তলপেটে ব্যথা ও শক্ত একটি চাকা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে এটিকে টিউমার বলে ধারণা করেছিলেন। পরে তার চিকিৎসা ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে তিনি গর্ভবতী হয়েছিলেন এবং তখন চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে। অস্ত্রোপচারের ভয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে ফিরে যান এবং এরপর আর চিকিৎসা নেননি।

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর তলপেটে ব্যথা নিয়ে আবার হাসপাতালে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, জরায়ুর পেছনে একটি শক্ত পিণ্ড রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিণ্ডটি অপসারণের পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এটি মৃত ভ্রূণের অবশিষ্টাংশ।

লিথোপেডিয়ন সাধারণত জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে দেখা দেয়। মৃত ভ্রূণটি শরীরের জন্য বড় হলে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হলে শরীর সেটিকে বিদেশি বস্তুর মতো আবরণ দিয়ে ঘিরে ফেলে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও, এটি মায়ের শরীরে কয়েক দশক পর্যন্ত থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা না দিলেও, পেটে শক্ত পিণ্ড বা ব্যথার কারণে পরে বিষয়টি ধরা পড়ে।

এ ধরনের ঘটনা মানবদেহের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধব্যবস্থার একটি উদাহরণ এবং এটি জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের জটিলতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

Tag :

চাঁদপুরে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: বিএনপি এমপি মানিক

৩৬ বছর পর পেট থেকে মিলল ‘পাথর শিশু’, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিরল ঘটনা

আপলোড সময় : ১২:৪৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের নাগপুরে ৬০ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে ৩৬ বছর পর ‘পাথর শিশু’ বা লিথোপেডিয়ন আবিষ্কৃত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। মৃত ভ্রূণ দীর্ঘদিন মায়ের শরীরে থাকার ফলে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যায় এবং এটি পাথরের মতো আকার ধারণ করে।

২০১৪ সালে ওই নারী তলপেটে ব্যথা ও শক্ত একটি চাকা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে এটিকে টিউমার বলে ধারণা করেছিলেন। পরে তার চিকিৎসা ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে তিনি গর্ভবতী হয়েছিলেন এবং তখন চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে। অস্ত্রোপচারের ভয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে ফিরে যান এবং এরপর আর চিকিৎসা নেননি।

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর তলপেটে ব্যথা নিয়ে আবার হাসপাতালে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, জরায়ুর পেছনে একটি শক্ত পিণ্ড রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিণ্ডটি অপসারণের পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এটি মৃত ভ্রূণের অবশিষ্টাংশ।

লিথোপেডিয়ন সাধারণত জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে দেখা দেয়। মৃত ভ্রূণটি শরীরের জন্য বড় হলে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হলে শরীর সেটিকে বিদেশি বস্তুর মতো আবরণ দিয়ে ঘিরে ফেলে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও, এটি মায়ের শরীরে কয়েক দশক পর্যন্ত থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা না দিলেও, পেটে শক্ত পিণ্ড বা ব্যথার কারণে পরে বিষয়টি ধরা পড়ে।

এ ধরনের ঘটনা মানবদেহের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধব্যবস্থার একটি উদাহরণ এবং এটি জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের জটিলতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।