বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনের সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ের কারণে নিহতের মেয়ে শিমু ও সৎ বোন রাতের বেলা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
শিমু জানান, বাবাকে দাফনের পরপরই তিনি মায়ের সঙ্গে গোপালগঞ্জে চলে গিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি চিথলিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন, তবে তার মা মনোয়ারা বেগম এখনও গোপালগঞ্জে অবস্থান করছেন। দাফনের সময়কার পরিস্থিতির কারণে তারা মানসিকভাবে শঙ্কিত রয়েছেন বলে জানান শিমু।
গ্রামের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও মানিক পশারীর বিষয়ে কথা বলতে স্থানীয়রা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তারা জানান, কথা বললে ঝামেলায় পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কায় মুখ খুলতে চান না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা জানান যে, তাদের কেউ কোনও ধরনের ভয়ভীতি বা হুমকি দেননি।
পিরোজপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার বলেন, মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের শঙ্কার বিষয়ে কেউ মৌখিক বা লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি। তবে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ নিয়মিত ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মানিক পশারীর পরিবারে আগুন দেওয়া হয়েছিল। ৮৭ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা ২৪ অক্টোবর মারা যান। তার দাফন নিয়ে জামায়াত সমর্থিত কর্মীদের আপত্তির কারণে পুলিশ লাইনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।


























