বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের রিকশাচালক আয়নাল হকের ছেলে মো. নাজমুল হাসান এখন সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব স্কোভডেতে ‘মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্স’ পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি পেয়েছেন। তবে বিদেশযাত্রার খরচ নিয়ে সংকটে পড়েছিলেন।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) নাজমুল তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার সংগ্রাম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি শুনে তাকে আর্থিক অনুদান দেন। তিনি নাজমুলকে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেকে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
নাজমুলের শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সের থিসিস করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।
নাজমুলের বিদেশে পড়ার স্বপ্ন দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। বাবার রিকশার আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার খরচ মেটাতে তাকে বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছে। তার এই সংগ্রাম তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
এখন নাজমুলের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেকে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা। তার পেছনে রয়েছে বাবার শ্রম ও পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, যা তাকে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে।

























