১০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যায় প্রধান শিক্ষকের সাহসী পদক্ষেপে ১৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা

  • আপলোড সময় : ০৩:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • 0

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির উপস্থিত বুদ্ধির কারণে ১৬৪৩ শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ত্রিশূলী ভ্যালিতে এই ঘটনা ঘটে।

৪৭ বছর বয়সী রাজেন্দ্র দাওয়াদি ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বন্যার সময় তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। স্কুলের ভবনটি নদীর পানিতে ভেসে গেলেও তার পদক্ষেপে শিক্ষার্থীরা বেঁচে যায়।

ঘটনার দিন সকালে দাওয়াদি জানতে পারেন, স্কুলের কাছের একটি গ্রাম নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে। তখন স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল এবং আরও ৭০০ শিক্ষার্থী স্কুলের পথে ছিল। নদীর পানি দ্রুত স্কুলের দিকে এগিয়ে আসছিল।

দাওয়াদি প্রথমে স্কুলটিকে নিরাপদ মনে করলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে দ্রুত বাস চালকদের ফোন করতে শুরু করেন। তিনি নির্দেশ দেন, যাতে বাসগুলো ফিরে যায়। শেষ বাসটি সেতুর অপর প্রান্তে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেতুটি ভেঙে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দাওয়াদি দ্রুত পদক্ষেপ নেন। এক ছাত্রী অসুস্থ হলে তাকে মোটরসাইকেলে করে পাঠানো হয়। অন্য শিক্ষার্থীদের পাহাড়ে উঠতে বলেন তিনি। তার সাহসী পদক্ষেপে ১৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা হয়, তবে একজন শিক্ষক সান্তোস পারিয়া বন্যায় ভেসে যান।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি একটি পর্বতশৃঙ্গ থেকে বরফ ও পাথর ধসে পড়ায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় নেপালে ৭৬৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানমন্ত্রী: ৯ বিমান কেনায় অনিয়মের তদন্ত হবে

নেপালে বন্যায় প্রধান শিক্ষকের সাহসী পদক্ষেপে ১৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা

আপলোড সময় : ০৩:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির উপস্থিত বুদ্ধির কারণে ১৬৪৩ শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ত্রিশূলী ভ্যালিতে এই ঘটনা ঘটে।

৪৭ বছর বয়সী রাজেন্দ্র দাওয়াদি ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বন্যার সময় তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। স্কুলের ভবনটি নদীর পানিতে ভেসে গেলেও তার পদক্ষেপে শিক্ষার্থীরা বেঁচে যায়।

ঘটনার দিন সকালে দাওয়াদি জানতে পারেন, স্কুলের কাছের একটি গ্রাম নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে। তখন স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল এবং আরও ৭০০ শিক্ষার্থী স্কুলের পথে ছিল। নদীর পানি দ্রুত স্কুলের দিকে এগিয়ে আসছিল।

দাওয়াদি প্রথমে স্কুলটিকে নিরাপদ মনে করলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে দ্রুত বাস চালকদের ফোন করতে শুরু করেন। তিনি নির্দেশ দেন, যাতে বাসগুলো ফিরে যায়। শেষ বাসটি সেতুর অপর প্রান্তে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেতুটি ভেঙে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দাওয়াদি দ্রুত পদক্ষেপ নেন। এক ছাত্রী অসুস্থ হলে তাকে মোটরসাইকেলে করে পাঠানো হয়। অন্য শিক্ষার্থীদের পাহাড়ে উঠতে বলেন তিনি। তার সাহসী পদক্ষেপে ১৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা হয়, তবে একজন শিক্ষক সান্তোস পারিয়া বন্যায় ভেসে যান।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি একটি পর্বতশৃঙ্গ থেকে বরফ ও পাথর ধসে পড়ায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় নেপালে ৭৬৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।