০২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর নদী দূষণের উৎস চিহ্নিত, সমাধানের প্রয়োজনীয়তা

  • আপলোড সময় : ০৮:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • 17

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলির দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাম্প্রতিক জরিপে ৪২৪টি প্রত্যক্ষ বর্জ্য উৎসমুখ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টি উৎসমুখ ঢাকা ওয়াসার, যা নির্দেশ করে যে সমস্যা কেবল শিল্পকারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

দূষণের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও, বর্তমান জরিপ দেখাচ্ছে অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও সমানভাবে দায়ী। রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টির পানি ও পয়োবর্জ্যের পৃথক নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই, ফলে গৃহস্থালি ও মানববর্জ্য নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এটি নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতার প্রতিফলন।

বিআইডব্লিউটিএর জরিপে দেখা গেছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন ও শিল্পকারখানার ২৪৪টি বর্জ্য উৎসমুখ নিয়মিত অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও সরকারি সংস্থার ড্রেনেজ ব্যবস্থাও দূষণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সরকার নদী রক্ষায় আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কমিটির কার্যকারিতা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব অপরিসীম। নদী দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজন সঠিক তথ্য ও জবাবদিহি।

রাজধানীর নদীগুলির পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন তত্ত্বের প্রয়োজন নেই, বরং চিহ্নিত সমস্যাগুলির বাস্তব সমাধান প্রয়োজন। দূষণের উৎস জানা গেলে, প্রযুক্তিগত সমাধানও বিদ্যমান। এখন দায়িত্ব পালন করার সময় এসেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় এক দিনের ছুটিতে ঘুরে দেখার জন্য ২০ ঐতিহাসিক স্থান

রাজধানীর নদী দূষণের উৎস চিহ্নিত, সমাধানের প্রয়োজনীয়তা

আপলোড সময় : ০৮:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলির দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাম্প্রতিক জরিপে ৪২৪টি প্রত্যক্ষ বর্জ্য উৎসমুখ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টি উৎসমুখ ঢাকা ওয়াসার, যা নির্দেশ করে যে সমস্যা কেবল শিল্পকারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

দূষণের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও, বর্তমান জরিপ দেখাচ্ছে অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও সমানভাবে দায়ী। রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টির পানি ও পয়োবর্জ্যের পৃথক নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই, ফলে গৃহস্থালি ও মানববর্জ্য নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এটি নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতার প্রতিফলন।

বিআইডব্লিউটিএর জরিপে দেখা গেছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন ও শিল্পকারখানার ২৪৪টি বর্জ্য উৎসমুখ নিয়মিত অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও সরকারি সংস্থার ড্রেনেজ ব্যবস্থাও দূষণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সরকার নদী রক্ষায় আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কমিটির কার্যকারিতা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব অপরিসীম। নদী দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজন সঠিক তথ্য ও জবাবদিহি।

রাজধানীর নদীগুলির পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন তত্ত্বের প্রয়োজন নেই, বরং চিহ্নিত সমস্যাগুলির বাস্তব সমাধান প্রয়োজন। দূষণের উৎস জানা গেলে, প্রযুক্তিগত সমাধানও বিদ্যমান। এখন দায়িত্ব পালন করার সময় এসেছে।