চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ ডুবোচরে আটকা পড়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার পর নাব্যতাসংকটের কারণে ফেরিটি আটকে যায়। এতে প্রায় ৩০০ যাত্রী আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন।
ফেরিটিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক এবং বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী ফেরিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী রয়েছেন, তবে যাত্রীদের মতে সেখানে অন্তত তিন শতাধিক আরোহী অবস্থান করছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে, এবং ক্যানটিনে খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
যাত্রী আরমান জারিফ জানান, ফেরি থেকে নেমে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যানটিনে ১০ টাকার চানাচুরের প্যাকেট ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য যাত্রী ওমর ফারুক বলেন, ‘অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আমরা। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা সবার মধ্যে। কখন চট্টগ্রামে পৌঁছাব, জানি না।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে মূল ভূখণ্ডের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত খননকাজ না করায় নাব্যতাসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতের জোয়ার এলে ফেরিটি ভেসে উঠবে এবং তখন পুনরায় বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক নয়ন শীল মন্তব্য করেছেন, জোয়ার-ভাটার হিসাব না মেনে ফেরি চালানোর ঘটনায় মাস্টারের গাফিলতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘উপকূলে ফেরি চালানোর ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটা অনুযায়ী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হয়।’
বিআইডব্লিউটিসি’র ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জানিয়েছেন, রাতের জোয়ারে ফেরিটি নিজে থেকে ভেসে না উঠলে বিকল্প উদ্ধারকারী জাহাজের সাহায্যে সেটিকে মুক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই স্থানে ফেরিটি আটকে পড়েছিল এবং তখন প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছিল।

























