০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারসংকট: চাহিদা ও সরবরাহে সামঞ্জস্যের প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০৯:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 1

গতকাল ইত্তেফাকে সারসংকট নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম রিপোর্টে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সহায়তায় সার বিতরণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন। দ্বিতীয় রিপোর্টে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি দামে ৫০ কেজির ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও কালোবাজারে তা ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশে সার নিয়ে বহুমুখী সংকট বিরাজমান। একদিকে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে ডিলারদের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া, সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে এবং বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটিবিচ্যুতি দেখা দিচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে সার আমদানিও ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সার আমদানি করা হলেও যুদ্ধের কারণে সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়া থেকেও সার আমদানি প্রত্যাশিতভাবে হচ্ছে না। ফলে আমন মৌসুমে সংকট সামাল দেওয়া গেলেও আসন্ন বোরো মৌসুমে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের সারের ডিলারের গুদাম ভাঙার মতো ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত ধান লাগানোর তিন সপ্তাহের মধ্যে সার দেওয়া প্রয়োজন। তাই সময়মতো ও পর্যাপ্ত সার কৃষকদের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিলারদের দাবি, আগামী নভেম্বরের আলু, পেঁয়াজ ও ভুট্টা চাষের জন্য আগাম সার সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। লাইসেন্স ছাড়া সার ব্যবসা এবং ভেজাল সার বিক্রিও একটি বড় সমস্যা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদা ৬৭ লক্ষ ৭০ হাজার ৫০০ টনে পৌঁছাবে। এছাড়া, অন্যান্য সারের চাহিদা ৯ লক্ষ ২১ হাজার ৩০০ টন। এই চাহিদা নির্ধারণ সঠিক কি না এবং সারের মজুত কতটুকু রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের সিংহভাগই বোরো ধান থেকে আসে এবং বোরো মৌসুমে মোট ব্যবহৃত সারের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রয়োজন হয়। তাই নভেম্বরের আগেই সারের সংকট কাটাতে হবে।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটিকে সক্রিয় করতে হবে এবং ডিলারদের সারের মজুত ও বিক্রির তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রকাশ করতে হবে। যেখানে সার অতিরিক্ত আছে, সেখান থেকে ঘাটতি থাকা এলাকায় সারের পুনর্বণ্টন করা আবশ্যক। সারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সারসংকট: চাহিদা ও সরবরাহে সামঞ্জস্যের প্রয়োজন

সারসংকট: চাহিদা ও সরবরাহে সামঞ্জস্যের প্রয়োজন

আপলোড সময় : ০৯:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গতকাল ইত্তেফাকে সারসংকট নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম রিপোর্টে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সহায়তায় সার বিতরণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন। দ্বিতীয় রিপোর্টে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি দামে ৫০ কেজির ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও কালোবাজারে তা ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশে সার নিয়ে বহুমুখী সংকট বিরাজমান। একদিকে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে ডিলারদের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া, সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে এবং বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটিবিচ্যুতি দেখা দিচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে সার আমদানিও ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সার আমদানি করা হলেও যুদ্ধের কারণে সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়া থেকেও সার আমদানি প্রত্যাশিতভাবে হচ্ছে না। ফলে আমন মৌসুমে সংকট সামাল দেওয়া গেলেও আসন্ন বোরো মৌসুমে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের সারের ডিলারের গুদাম ভাঙার মতো ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত ধান লাগানোর তিন সপ্তাহের মধ্যে সার দেওয়া প্রয়োজন। তাই সময়মতো ও পর্যাপ্ত সার কৃষকদের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিলারদের দাবি, আগামী নভেম্বরের আলু, পেঁয়াজ ও ভুট্টা চাষের জন্য আগাম সার সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। লাইসেন্স ছাড়া সার ব্যবসা এবং ভেজাল সার বিক্রিও একটি বড় সমস্যা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদা ৬৭ লক্ষ ৭০ হাজার ৫০০ টনে পৌঁছাবে। এছাড়া, অন্যান্য সারের চাহিদা ৯ লক্ষ ২১ হাজার ৩০০ টন। এই চাহিদা নির্ধারণ সঠিক কি না এবং সারের মজুত কতটুকু রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের সিংহভাগই বোরো ধান থেকে আসে এবং বোরো মৌসুমে মোট ব্যবহৃত সারের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রয়োজন হয়। তাই নভেম্বরের আগেই সারের সংকট কাটাতে হবে।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটিকে সক্রিয় করতে হবে এবং ডিলারদের সারের মজুত ও বিক্রির তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রকাশ করতে হবে। যেখানে সার অতিরিক্ত আছে, সেখান থেকে ঘাটতি থাকা এলাকায় সারের পুনর্বণ্টন করা আবশ্যক। সারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।