বাংলাদেশে গণপিটুনির ঘটনা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গণপিটুনিতে নিহত হন ৫১ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১২৮-এ পৌঁছায়, এবং ২০২৫ সালে নিহতের সংখ্যা ১৯৮ জনে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসকের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৭১। অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে ৩৯৮টি গণপিটুনির ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত এবং ৪০১ জন আহত হয়েছেন।
গণপিটুনির প্রবণতা সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতার ফলস্বরূপ দেখা দিচ্ছে। যখন মানুষ মনে করে অপরাধ করে পার পাওয়া যায়, তখন আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বও জনতাকে ব্যবহার করার ক্ষেত্র তৈরি করে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গণপিটুনি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের অভাব মানুষের মধ্যে হতাশা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা। রাষ্ট্রের দুর্বলতা কখনোই জনতার হাতে হত্যার লাইসেন্স হতে পারে না। গণপিটুনির সময় উপস্থিত লোকেরা যখন নীরব দর্শক হয়ে থাকেন, তখন কেবল একজন মানুষের মৃত্যু ঘটে না, বরং সমাজের বিবেকও অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
মানুষের জীবন রক্ষায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতা আইন শাসনের দুর্বলতা সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে এবং উন্নয়নের গৌরব ক্ষুণ্ণ হবে। গণপিটুনির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা প্রতিরোধ করা যায়।























