ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে সিরাজগঞ্জ শহরের অলি-গলিসহ প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট। কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমরসমান। পৌর এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
রোববার (১৯ জুলাই) গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষণ দুপুর পর্যন্ত চলমান। শহরের বেশিরভাগ দোকান পাটসহ সরকারি অফিস আদালতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যায়।
টানা বৃষ্টিতে অন্তত দেড় শতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে বলে জানান শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোবদাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রেজাউল। তিনি বলেন, রাস্তা ও ড্রেন উঁচু হওয়ায় বাড়িগুলো নিচু হয়ে গেছে। পানি বের হওয়ার পথ পাচ্ছে না।
তাড়াশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাত থেকে সিরাজগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার বিকেলেও পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলমান ছিল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার আহ্বায়ক দীপক কুমার কর বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেন নয়, সঠিক পরিকল্পনার অভাব একটি বড় কারণ। গত কয়েক বছরে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ দুটোই কমে গেছে।
সিরাজগঞ্জ পৌর প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছি। ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনে চলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে যমুনার পানি বেড়েই চলেছে। আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু ও নদী-খালের সঙ্গে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকরভাবে সংযোগ করা না গেলে জলাবদ্ধতা জনগণের ভোগান্তি দূর হবে না বলে সচেতন মহল মনে করেন।


























