আগামী বছরের ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ব্রিটেনে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কৃষকরা। ভয়াবহ খরা, গত বছরের সবচেয়ে খারাপ ফসল এবং গবাদিপশুর মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কারণে কৃষকদের আর্থিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার এক ডজনের বেশি কৃষি সংগঠন জানিয়েছে, কৃষিখাত বর্তমানে সংকটের পর্যায়ে রয়েছে। তারা সরকারের জরুরি সহায়তা ছাড়া আগামী বছরের খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেন, কৃষকেরা নগদ অর্থের প্রবাহ ও আস্থার ক্ষেত্রে সংকটে পড়েছেন।
ব্রাডশ আরও জানান, ফসল নষ্ট ও উৎপাদন কমে যাওয়ার পর বৃষ্টি এলেও তা ক্ষতি পূরণ করতে পারেনি। একই সময়ে গবাদিপশু খামারিরা ব্লুটাং রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছেন। হার্টফোর্ডশায়ারের কৃষক ব্রাডশ বলেন, অনেক কৃষক আশঙ্কা করছেন, আগামী বছরের ফসল উৎপাদনের জন্য জমিতে বীজ বপন কিংবা মারা যাওয়া গবাদিপশুর পরিবর্তে নতুন পশু কেনার মতো অর্থ ব্যাংকে থাকবে না।
সাধারণত শরৎকালে ব্রিটেনের কৃষকেরা গম ও যবের মতো শস্যের বীজ বপন করেন। তবে এবার সার ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্বল ফসলের কারণে শস্যের দামও কম। বর্তমানে প্রতি টন সারের দাম প্রায় ৪৬০ পাউন্ড।
ব্রিটেনে ব্লুটাং রোগের ৫০০টির বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার বেশির ভাগই দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে। কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে কৃষি সংগঠনগুলো। ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, কৃষিখাতকে সহায়তা দিতে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং কৃষকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।




















