সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা লড়তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রায় সাড়ে তিনশো আইন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল। এদের মধ্যে অনেকেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং জামায়াতপন্থি আইনজীবীও রয়েছেন। বর্তমান সরকারের সময়েও তাদের অধিকাংশই বহাল থাকায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুই শতাধিক আইন কর্মকর্তা বিএনপির সক্রিয় অনুসারী। সম্প্রতি জামায়াতপন্থি সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদত্যাগ করেন। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, তাদের অনেককে নিয়োগ না করা হয়েছে এবং আগে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা এখনো কর্মরত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বাছবিচারহীনভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকেই আইন পেশায় নিয়মিত নন এবং তাদের নিয়োগের পেছনে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, সরকার সমর্থক ও আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা বলছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর রয়েছে। তারা দাবি করছেন, আইন মন্ত্রণালয় এর দায় এড়াতে পারে না এবং অবিলম্বে বর্তমান কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে হবে। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মনে করেন, তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের পরেও নিয়োগ প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
এদিকে, ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, সরকার বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে এবং আশা করছেন দ্রুত নিয়োগগুলো সম্পন্ন হবে। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সরকারের পরিবর্তনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।

























