০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মা ব্যাংক সাবেক চেয়ারম্যানকে মাসে ৬০ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছে, আমানতকারীদের টাকা ফেরত নেই

  • আপলোড সময় : ০৭:২৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • 10

পদ্মা ব্যাংক সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ৬০ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছে। ব্যাংকটি বর্তমানে আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে ব্যর্থ হয়ে চরম সংকটে রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পদ্মা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় অফিস সহকারী জামাল হোসেন তাঁর মেয়াদী সঞ্চয়ী স্কিমের দুই লাখ টাকা তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও ব্যাংকটি তাঁর টাকা ফেরত দেয়নি। জামালসহ হাজার হাজার আমানতকারী আজ চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পদ্মা ব্যাংকে একক বা ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আটকে রয়েছে। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা খারাপ হলেও, ২০২২ সালে নাফিজ সরাফাত চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাংকটি গুলশান-২-এর ফাইনান্স স্কয়ার ভবনে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে ২৪,০০০ বর্গফুট জায়গার জন্য ১৪ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নরের অনুমোদনে এই লেনদেন হয়। সিআইডির তদন্তে জানা যায়, ভবনটি নাফিজের পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট। ব্যাংকটি ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিনিয়োগ করা ২১৯ কোটি টাকারও বেশি অর্থ উদ্ধার করতে পারছে না।

২০২৫ সালে পদ্মা ব্যাংক ৯,৩০০ কোটি টাকার লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির কার্যক্রম নামমাত্র। ব্যাংকের ৭৪টি শাখার মধ্যে অধিকাংশ অকার্যকর। পদ্মা ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত সিইও কাজী মো. তালহা জানিয়েছেন, ব্যাংকটির হাতে আমানতকারীদের পাওনা মেটানোর মতো তারল্য নেই।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের নৈতিক সাহস থাকলে গোপালগঞ্জে পথসভা করার আহ্বান রাশেদ খাঁনের

পদ্মা ব্যাংক সাবেক চেয়ারম্যানকে মাসে ৬০ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছে, আমানতকারীদের টাকা ফেরত নেই

আপলোড সময় : ০৭:২৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পদ্মা ব্যাংক সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ৬০ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছে। ব্যাংকটি বর্তমানে আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে ব্যর্থ হয়ে চরম সংকটে রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পদ্মা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় অফিস সহকারী জামাল হোসেন তাঁর মেয়াদী সঞ্চয়ী স্কিমের দুই লাখ টাকা তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও ব্যাংকটি তাঁর টাকা ফেরত দেয়নি। জামালসহ হাজার হাজার আমানতকারী আজ চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পদ্মা ব্যাংকে একক বা ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আটকে রয়েছে। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা খারাপ হলেও, ২০২২ সালে নাফিজ সরাফাত চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাংকটি গুলশান-২-এর ফাইনান্স স্কয়ার ভবনে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে ২৪,০০০ বর্গফুট জায়গার জন্য ১৪ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নরের অনুমোদনে এই লেনদেন হয়। সিআইডির তদন্তে জানা যায়, ভবনটি নাফিজের পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট। ব্যাংকটি ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিনিয়োগ করা ২১৯ কোটি টাকারও বেশি অর্থ উদ্ধার করতে পারছে না।

২০২৫ সালে পদ্মা ব্যাংক ৯,৩০০ কোটি টাকার লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির কার্যক্রম নামমাত্র। ব্যাংকের ৭৪টি শাখার মধ্যে অধিকাংশ অকার্যকর। পদ্মা ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত সিইও কাজী মো. তালহা জানিয়েছেন, ব্যাংকটির হাতে আমানতকারীদের পাওনা মেটানোর মতো তারল্য নেই।