দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার মধ্যে ডেঙ্গু ও হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম রোগে পাঁচজনের মৃত্যু ও ৭২৯ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে, ডেঙ্গুতে ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ১ জানুয়ারি থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদরা সতর্ক করেছেন যে, রাজধানীর বাইরে বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে এডিস মশার বংশবিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত বছর বরগুনা জেলা ছিল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট। রোগ তথ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ করা হলেও বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়নি।
রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার প্রজনন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, নগরীর এডিস প্রজনন সূচক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকি সীমার অনেক ওপরে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহাসান জানিয়েছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


























