০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা, সাবেক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৭৪ কেজি সোনা উদ্ধার

  • আপলোড সময় : ১২:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • 6

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এক দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক শীর্ষ দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গত ৮ জুলাই জাকার্তার একটি অভিজাত এলাকায় ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ৭৪ কেজি সোনার বার এবং প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলার নগদ উদ্ধার করা হয়। ফেব্রি, যিনি সাবেক উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, বাড়িটি নিজের বলে স্বীকার করলেও জব্দকৃত সোনা ও অর্থের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন।

ঘটনার পরদিন রাত তিনটার দিকে সশস্ত্র সেনা সদস্যদের কয়েকটি দল পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান নেয়, যা প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। যদিও কোনো সংঘর্ষ হয়নি, তবে এই মুখোমুখি অবস্থান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়, যার ফলে ফেব্রিকে তার পদ থেকে সরানো হয়। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাধারণ পুলিশ নয়, বরং তার নিজ সংস্থাই পরিচালনা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পর পুলিশ স্বাধীনতা লাভ করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের শীর্ষ দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতার লড়াইয়ের ফলস্বরূপ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা, সাবেক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৭৪ কেজি সোনা উদ্ধার

আপলোড সময় : ১২:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এক দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক শীর্ষ দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গত ৮ জুলাই জাকার্তার একটি অভিজাত এলাকায় ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ৭৪ কেজি সোনার বার এবং প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলার নগদ উদ্ধার করা হয়। ফেব্রি, যিনি সাবেক উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, বাড়িটি নিজের বলে স্বীকার করলেও জব্দকৃত সোনা ও অর্থের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন।

ঘটনার পরদিন রাত তিনটার দিকে সশস্ত্র সেনা সদস্যদের কয়েকটি দল পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান নেয়, যা প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। যদিও কোনো সংঘর্ষ হয়নি, তবে এই মুখোমুখি অবস্থান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়, যার ফলে ফেব্রিকে তার পদ থেকে সরানো হয়। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাধারণ পুলিশ নয়, বরং তার নিজ সংস্থাই পরিচালনা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পর পুলিশ স্বাধীনতা লাভ করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের শীর্ষ দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতার লড়াইয়ের ফলস্বরূপ।