০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

  • আপলোড সময় : ১০:২৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 7

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর বালুমহালে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বেড়িবাঁধ, চরের বসতঘর ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। চরের কাছাকাছি এলাকার নদী থেকে গভীরভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমানা ও শর্ত না মেনে শতাধিক ড্রেজার ও কাটার মেশিন বসিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার কারণে তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি সরকারের ১৯ কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া রোববার (২ আগস্ট) এই নোটিশ পাঠান।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নিলামের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র স্তূপ থাকা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গভীরতা ও পানির ধারণক্ষমতা বেড়ে গিয়ে নদীতীরে আঘাত হানছে।

নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছর চরাত্রা চরের বালুর স্তূপ থেকে ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন এই কাজটি পেয়েছে, যার মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি। তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

এ ব্যাপারে ফরিদ উদ্দিন বলেন, তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছেন। তবে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, বালু উত্তোলনের কাজের তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে গত ৬ জুলাই থেকে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিবি পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে চুরির অভিযোগে আটক ৩

শরীয়তপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

আপলোড সময় : ১০:২৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর বালুমহালে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বেড়িবাঁধ, চরের বসতঘর ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। চরের কাছাকাছি এলাকার নদী থেকে গভীরভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমানা ও শর্ত না মেনে শতাধিক ড্রেজার ও কাটার মেশিন বসিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার কারণে তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি সরকারের ১৯ কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া রোববার (২ আগস্ট) এই নোটিশ পাঠান।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নিলামের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র স্তূপ থাকা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গভীরতা ও পানির ধারণক্ষমতা বেড়ে গিয়ে নদীতীরে আঘাত হানছে।

নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছর চরাত্রা চরের বালুর স্তূপ থেকে ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন এই কাজটি পেয়েছে, যার মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি। তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

এ ব্যাপারে ফরিদ উদ্দিন বলেন, তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছেন। তবে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, বালু উত্তোলনের কাজের তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে গত ৬ জুলাই থেকে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।