০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ

  • আপলোড সময় : ০৯:৩২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • 12

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে শিফা থানা এলাকার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহীর শ্রমিক রয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আত্রাই উপজেলার নিহতের সংখ্যা ১১ অথবা ১৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, এক বাংলাদেশি শ্রমিক চুল কাটাতে যাওয়ার কারণে প্রাণে বাঁচেন, যা জীবন ও মৃত্যুর মাঝে কয়েক মিনিটের ব্যবধানকে তুলে ধরে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার। ২০২৫ সালের মধ্যে ১১ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন, যাদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে অনেক শ্রমিক মানবেতর পরিবেশে কাজ করছেন।

দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ শনাক্তকরণ, আইনি আনুষ্ঠানিকতা এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া পরিবারগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সরকারের উচিত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে পরিবারের জন্য প্রশাসনিক বোঝা কমানো যায়। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনের মূল্য রাষ্ট্রকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে, কারণ তারা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরান খানের সন্তানদের সাক্ষাৎকার, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ম্যাচ বয়কটের হুমকি

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ

আপলোড সময় : ০৯:৩২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে শিফা থানা এলাকার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহীর শ্রমিক রয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আত্রাই উপজেলার নিহতের সংখ্যা ১১ অথবা ১৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, এক বাংলাদেশি শ্রমিক চুল কাটাতে যাওয়ার কারণে প্রাণে বাঁচেন, যা জীবন ও মৃত্যুর মাঝে কয়েক মিনিটের ব্যবধানকে তুলে ধরে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার। ২০২৫ সালের মধ্যে ১১ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন, যাদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে অনেক শ্রমিক মানবেতর পরিবেশে কাজ করছেন।

দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ শনাক্তকরণ, আইনি আনুষ্ঠানিকতা এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া পরিবারগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সরকারের উচিত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে পরিবারের জন্য প্রশাসনিক বোঝা কমানো যায়। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনের মূল্য রাষ্ট্রকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে, কারণ তারা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।