গাজীপুরের কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন, যা নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।
সিফাত দাবি করেন, গত দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) তার বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১০ হাজার টাকা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটা পুরো পরিবারকে জিম্মি কইরা ফেলবো?’ অভিযোগের পর গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বিষয়টি তদন্ত করে ভিন্ন চিত্র পায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিফাতের পিতা মো. সেকান্দার আলীর নামে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। প্রতিবেদনে তিনটি মিটারের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ইউনিট ও বিলের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়েছে, যার বিপরীতে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।
তদন্তের সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে পরিবারের পক্ষ থেকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সিফাতের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনটি মিটারের ব্যবহার ও বিলের হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সিফাতের অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

























