০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় অটোভ্যানচালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

  • আপলোড সময় : ১১:৩৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 8

আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারের পাশ থেকে অটোভ্যান চালক মো. সুজন হাওলাদারের (২৯) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে মো. মারুফ ও লুণ্ঠিত অটোভ্যানের ক্রেতা তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, নিহতের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, সুজন হাওলাদার ৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন এবং রাত ৯টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা বলেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়া থেকে আবদুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মাথায় থেঁতলানো আঘাত ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

নিহতের মা মোছা. আলো বেগম ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ১১ আগস্ট দায়ের করা হয়, যার নম্বর ৫৮। পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১১ আগস্ট সকালে মাদারীপুর সদর থানার একটি অটো গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মারুফ ও তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সুজনের লুণ্ঠিত অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পিবিআই জানায়, মারুফ পেশায় ভ্যানচালক এবং নিহত সুজনের পূর্বপরিচিত। তারা ৮ আগস্ট রাতে মোহাম্মদপুরে দেখা করেন এবং পরে অটোভ্যান নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর সুজন ঘুমিয়ে পড়লে মারুফ তাকে হত্যা করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরান খানের সন্তানদের সাক্ষাৎকার, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ম্যাচ বয়কটের হুমকি

আশুলিয়ায় অটোভ্যানচালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

আপলোড সময় : ১১:৩৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারের পাশ থেকে অটোভ্যান চালক মো. সুজন হাওলাদারের (২৯) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে মো. মারুফ ও লুণ্ঠিত অটোভ্যানের ক্রেতা তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, নিহতের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, সুজন হাওলাদার ৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন এবং রাত ৯টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা বলেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়া থেকে আবদুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মাথায় থেঁতলানো আঘাত ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

নিহতের মা মোছা. আলো বেগম ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ১১ আগস্ট দায়ের করা হয়, যার নম্বর ৫৮। পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১১ আগস্ট সকালে মাদারীপুর সদর থানার একটি অটো গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মারুফ ও তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সুজনের লুণ্ঠিত অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পিবিআই জানায়, মারুফ পেশায় ভ্যানচালক এবং নিহত সুজনের পূর্বপরিচিত। তারা ৮ আগস্ট রাতে মোহাম্মদপুরে দেখা করেন এবং পরে অটোভ্যান নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর সুজন ঘুমিয়ে পড়লে মারুফ তাকে হত্যা করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।