জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৫৬) কিডনি বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক ব্যক্তিকে কিডনি বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। 'বকেয়া' টাকা না পাওয়ার কারণে ওই ব্যক্তি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মন্টু মিয়াকে কিডনি বিক্রির জন্য টার্গেট করা হয়। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং পরে নেপালের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কিডনি নেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে সাত্তারসহ অন্যান্য দালালরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
মামলায় সাত্তার ছাড়াও বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচার চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে টার্গেট করে। প্রশাসনের নজরদারির কারণে গত কয়েক বছর এদের কার্যক্রম কমে গেলেও গত এক বছর ধরে চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
কালাই থানার ওসি (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ জানিয়েছেন, আব্দুস সাত্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।


























