০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব শিল্প খাতে উৎপাদন ও রপ্তানিতে

  • আপলোড সময় : ০৮:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • 12

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে টেক্সটাইল, ডাইং, পোশাক, ইস্পাত, খাদ্য ও নিত্যপণ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমেছে। কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে, আবার কিছুতে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয়, রপ্তানি আদেশ, কর্মসংস্থান এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১ হাজার ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে, যেখানে দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও, মোট গ্যাসের প্রাপ্যতা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।

মেঘনা গ্রুপের ৫৭টি কারখানা ১০ আগস্ট রাত থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, টি কে গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানা এবং বিএসআরএমের ১০টি প্রধান কারখানা বন্ধ রয়েছে। হবিগঞ্জে ১৭১টি কারখানা কয়েক দিন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। নরসিংদী-মাধবদী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের কম চাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু জানান, বর্তমানে জ্বালানি সংকট একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়াররা পণ্য শিপম্যান্টের আগে জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন।

বর্তমান সংকটের একটি কারণ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে সরবরাহ-বিঘ্ন। ২১ জুলাই আগুনের কারণে টার্মিনালটি দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ ছিল। এছাড়া, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে এবং গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে, যার ফলে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে একটি নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শিগগিরই পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব শিল্প খাতে উৎপাদন ও রপ্তানিতে

আপলোড সময় : ০৮:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে টেক্সটাইল, ডাইং, পোশাক, ইস্পাত, খাদ্য ও নিত্যপণ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমেছে। কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে, আবার কিছুতে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয়, রপ্তানি আদেশ, কর্মসংস্থান এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১ হাজার ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে, যেখানে দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও, মোট গ্যাসের প্রাপ্যতা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।

মেঘনা গ্রুপের ৫৭টি কারখানা ১০ আগস্ট রাত থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, টি কে গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানা এবং বিএসআরএমের ১০টি প্রধান কারখানা বন্ধ রয়েছে। হবিগঞ্জে ১৭১টি কারখানা কয়েক দিন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। নরসিংদী-মাধবদী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের কম চাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু জানান, বর্তমানে জ্বালানি সংকট একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়াররা পণ্য শিপম্যান্টের আগে জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন।

বর্তমান সংকটের একটি কারণ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে সরবরাহ-বিঘ্ন। ২১ জুলাই আগুনের কারণে টার্মিনালটি দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ ছিল। এছাড়া, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে এবং গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে, যার ফলে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে একটি নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।